রাজ্য

‘দিদি ডেকেছেন বলে এসেছি’, আদতে ২১শে জুলাইয়ের দিন কী হয়েছিল? শহিদ দিবসের উদ্দেশ্যই বা কী? জবাবই দিতে পারলেন না তৃণমূল কর্মীরা

আজ ফের একটা ২১শে জুলাই। গত দু’বছর ধরে করোনা পরিস্থিতির জন্য এই দিনটি পালন করতে পারে নি তৃণমূল। তবে এই বছর তা হচ্ছে। আর এই বছরের শহিদ দিবসে যে তাই লাগামছাড়া ভিড় হতে পারে, তা সকলেই আন্দাজ করেছে। ২১শে জুলাই নিয়ে তৃণমূল নেতা, কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।

ভিনরাজ্য থেকেও এদিন ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। কাতারে কাতারে ভিড় আজ মহানগরের রাস্তায়। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য তৎপর পুলিশ। কিন্তু এত্ত মানুষ যে জড়ো হচ্ছেন এই শহিদ সমাবেশের জন্য, তারা কী আদৌ জানেন যে ঠিক কী কারণে এই সমাবেশ? আদৌ ২১শে জুলাইয়ের তাৎপর্য কী? কেন এই দিনটি পালন করে তাদের প্রিয় দল তৃণমূল?

এই নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায় এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। আর তাতে তৃণমূল কর্মীদের থেকে যেসমস্ত উত্তর মিলল, তা বেশ হাস্যকর বলা যেতে পারে। সাংবাদিক তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের এই ২১শে জুলাই আদতে কী হয়েছিল, তা জিজ্ঞাসা করায় কেউ উত্তর দিতে পারলেন না, কেউ কেউ অন্যজনকে দেখিয়ে বললেন, ওঁকে জিজ্ঞাসা করুন।

২১শে জুলাই ঠিক কী হয়েছিল, কেন এইদিন শহিদ দিবস পালন করা হয়, সেই প্রশ্ন শুনে কেউ কেউ বললেন, ‘এসব জানিনা, দিদি ২১শে জুলাইয়ের জন্য ডেকেছেন, তাই এসেছি’। আবার কারোর উত্তর, ‘এইদিন তৃণমূল কর্মীদের মেরে ফেলা হয়েছিল, তাই শহিদ দিবস পালন করা হয়’। কিন্তু কারা, বা ঠিক কী কারণে তৃণমূল কর্মীদের মৃত্যু হয়, তা বলতে পারলেন না তিনি। খুবই অল্প সংখ্যক মানুষই ২১শে জুলাইয়ের ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন বটে, তবে বেশিরভাগই আদৌ জানেনই না যে কেন তারা এই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন, বা এই দিনের তাৎপর্য কী?

ভিডিও সৌজন্যেঃ টিভি৯ বাংলা

এই ভিডিও দেখে নেটিজেনরা বেশ কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবিরকে। অনেকের মতেই, ‘দিদি’র জন্য অন্ধ হয়ে চলে তো আসেন সমাবেশে ভিড় বাড়াতে, কিন্তু কেন আসছেন, কী কারণ, তা বেশিরভাগ মানুষই জানেন না। কারোর মতে, তৃণমূল শুধুমাত্র খাওয়ানোর লোভ দেখিয়েই সমাবেশে ভিড় বাড়ায়। ভিড় বাড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য, আর কিছুই নয়।

তবে ঠিক কী হয়েছিল এই ২১শে জুলাইয়ের দিন?

সালটা ১৯৯৩। তৃণমূলের জন্ম হয়নি তখনও। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেসের নেত্রী তথা সভাপতি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে জ্যোতি বসুর সরকার। সযেই সময় সিপিএমের বিরুদ্ধে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ বিরোধীদের মুখে প্রায়ই শোনা যেত। এমন আবহেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবীতে সেই বছর ২১শে জুলাই মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই মমতার ডাকে মহাকরণ অভিযানের জন্য কলকাতার রাজপথে নামেন হাজার হাজার যুবকংগ্রেস কর্মী। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সচিবালয়ে এই অভিযান রুখতে তৎপর হয় রাজ্য পুলিশও। বিভিন্ন ক্রসিং আটকানো হয় ব্যারিকেড দিয়ে। এরপর মিছিল মহাকরণের দিকে এগোলেই হঠাৎ চলতে থাকে গুলি। আর সেই গুলিতে নিহত হন ১৩ জন যুবকংগ্রেস কর্মী। এই ১৩ যুবকংগ্রেসকর্মীর মৃত্যুতে রীতিমতো উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। কার নির্দেশে পুলিশ এই গুলি চালাল, এই প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি। সেই সময় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তবে এই ঘটনায় পরবর্তীকালে সিবিআই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ক্নিনচিট দিয়েছিল।

Related Articles

Back to top button