রাজ্য

মহান উদ্যোগ! বিশেষভাবে সক্ষম ও প্রবীণ ব্যক্তিদের ঠাকুর দেখাতে নিয়ে গেলেন টোটোচালকরা, হাসি ফুটল সকলের মুখে

পুলিশি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বড় রাস্তায় টোটো চালানো যাবে না পুজোর সময়। এই কারণে টোটো চালকদের বেশ মন খারাপ। কারণ পুজোর সময় বাড়তি একটু আয়ের ইচ্ছা সকলেরই থাকে। তবে এরই মাঝে পাড়ার প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যেতে পেরে বেশ খুশি হলেন ওই টোটো চালকরা।

পুজোর সময় হুগলী জেলা সংশোধনাগার এলাকার টোটো চালকরা এলাকার প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষমদের নিয়ে টোটো চালিয়ে ঠাকুর দেখাতে বের হন। এই বিষয়ে এক টোটো চালক স্বপন মণ্ডল বলেন, “সারা বছর টোটো চালিয়ে আয় করি। পুজোর একটা দিন বয়স্ক মানুষ যাঁরা পায়ে হেঁটে ঠাকুর দেখতে যেতে পারেন না, তাঁদের নিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরি। খুব ভালো লাগে”।

অন্য এক টোটো চালক বলেন, “শহরে যানজট হয় টোটোর কারণে এটা সত্যি। এটা আমরাও বুঝি। তবে এত বেকার লোক কী করে তাঁদের চলবে সেটা যেমন ভাবার। পাশাপাশি প্রশাসনের দেখা উচিত বাইরে থেকে যে সব টোটো হুগলি চুঁচুড়ায় ঢুকছে সেগুলো আটকানো। যে যাঁর এলাকায় গাড়ি চালালে হয়তো এত যানজট হবে না”।

এই উদ্যোগে বেজায় খুশি প্রবীণরাও। এক ষাটোর্ধ্ব মহিলা বলেন, “ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে খুব ভালো লাগছে। পায়ে ব্যাথার জন্য হাঁটতে পারি না। টোটোচালক ভাইরা এমন ব্যবস্থা করেছে, যার জন্য মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দেখতে পাচ্ছি”।  

অন্য এক প্রবীণ এই বিষয়ে বলেন, “কয়েক বছর তো ঠাকুর দেখতে বের হতে পারিনি। দু’বছর করোনা গেল। এবার টোটোয় করে ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কারণে রাজি হয়ে গেলাম। খুশি প্রতিমা দর্শন করতে পেরে”।

উল্লেখ্য, যানজট কমানোর জন্য এই বছর একাধিক জেলাতেই বড় রাস্তায় টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত বেশিরভাগ জেলাতেই বড় রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই বছর। একাদশীর দিন থেকেই টোটো চলাচল ফের স্বাভাবিক হবে।

Related Articles

Back to top button