সব খবর সবার আগে।

‘বিদ্রোহী’ মিহির গোস্বামীর মানভঞ্জন করতে ফের তাঁর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় বিধায়ক

ফের একবার ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী মানভঞ্জন করতে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হলেন উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। আজ, মঙ্গলবার সকালে অবশেষে দেখা হল দুই প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার। এদিন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে দুজনের কথোপকথন। এর আগেও একবার মিহিরবাবুর বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান রবীন্দ্রনাথবাবু, কিন্তু সেদিন তাঁর দেখা মেলেনি। এদিন দুজনের মধ্যে আলোচনা হলেও নিজের সিদ্ধান্ত যে তিনি বদলাবেন না, তা সাফ জানিয়ে দেন মিহিরবাবু।

বেশ কিছুদিন ধরেই দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন কোচবিহারের দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এই নিয়ে ফেসবুকে বিস্তর লেখালেখিও করেন তিনি। শাসক দলনেত্রীর উপর ঠিক কী কী কারণে তাঁর অনাস্থা জন্মেছে, তাও খোলসা করে বলেন তিনি। এরপর দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন মিহিরবাবু। তারপরই ফেসবুকে জানান, তিনি আর তৃণমূলে নেই। নিজের দলীয় কার্যালয় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও তৃণমূলের ব্যানার সরিয়ে ফেলেন তিনি।

তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে শুরু হয় বিস্তর জল্পনা। এরপরই তাঁর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দেখা করতে যান কিন্তু দেখা পাননি। পরে জানা যায়, বিজেপি সাংসদ নিশীথ অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন মিহিরবাবু যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠে।

আজ, মিহিরবাবুর সঙ্গে আলোচনা সেরে রবীন্দ্রনাথবাবু জানান তিনি আগেও এসেছিলেন বিজয়া করতে। কিন্তু দেখা না পেয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকেরই মনের মধ্যে ক্ষোভ দুঃখ থাকতে পারে। সেটা যদি বলে কেউ হালকা হয়, তাতে দোষের কিছু নেই। তাঁর এও বলেন,  “আমরা চাইছি মিহিরদা তৃণমূলে ছিল, আছে, থাকুক। তিনি বহু বছর ধরে ছাত্র, যুব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। তিনি জেলার প্রবীণ নেতাদের মধ্যে অন্যতম। জেলার মানুষের অনেক সুখ দুঃখের সাথী তিনি। তাদের মতো লোককে আমরা তো দলে রাখতেই চাই”।

তবে এদিন আলোচনার পরে মিহিরবাবু স্পষ্ট জানান যে তিনি নিজের জায়গাতেই অনড় থাকবেন। কোনও কথাতেই তাঁর মন ভোলানো যাবে না। তাঁর কথায়, “আসল কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় ৩০ বছরের। গত ১০ বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৃণমূলের নেতৃত্বের থেকে যে সম্মান পাওয়ার কথা তা পাইনি। আমি আমার কথা ৩রা অক্টোবর বলেছিলাম। আমার মনে হয়েছে জেলা ও রাজ্য স্তরে আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে। দলের কাছে আমি খুব প্রয়োজনীয় এটা ভাবলে বোকামি হবে। সেক্ষেত্রে আমি যা বলেছি, আজও বলছি, আগামী দিনেও বলব”।

বছর গড়ালেই বিধানসভা ভোট। তাই এই মুহূর্তে দলের কোনও নেতা বা বিধায়ককেই হাতছাড়া করতে চাইছে না তৃণমূল। তাই বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে তাদের দলমুখী করার চেষ্টা চালাচ্ছে শাসকদল। এদিকে, কানাঘুষো শোনা গিয়েছে যে মিহিরবাবু হয়ত বিজেপিতেই যোগ দিতে পারেন। কিন্তু এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু নিশ্চিত করেননি মিহিরবাবু।

You might also like
Comments
Loading...