রাজ্য

‘তৃণমূল দুর্নীতিতে জর্জরিত, বিজেপির বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে লড়া সম্ভব নয়’, দলকে অস্বস্তিতে ফেলে তৃণমূল ছাড়লেন রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি

ফের বড় দেখা দিল তৃণমূলের (TMC) মধ্যে। যতদিন যাচ্ছে, ততই যেন তৃণমূলের মধ্যেকার নেতাদের নানান ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে ধীরে ধীরে। যেভাবে একের পর এক দুর্নীতিতে (corruption) তৃণমূলের নাম জড়াচ্ছে, তাতে দল যে চাপের মুখে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন পরিস্থিতিতে এবার দলকে অস্বস্তিতে ফেলেই জল্পনা উস্কে দল ছাড়লেন তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি।

তবে বাংলার নয়, তিনি হলেন ত্রিপুরার রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল বাসিত খান। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে দল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। আব্দুল বাসিত খানের কথায়, তৃণমূল এখন দুর্নীতিতে জর্জরিত। তৃণমূলে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ নয়। এমন অবস্থায় বিজেপির বিরুদ্ধে লড়া সম্ভব নয়। আর এই কারণেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

একুশের নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর তৃণমূলের লক্ষ্য এবার জাতীয় রাজনীতিতে নিজের জমি শক্ত করা। এই কারণে বাংলার বাইরে নানান রাজ্যেই সংগঠন মজবুত করতে উদ্যত হয় ঘাসফুল শিবির। এর মধ্যে ছিল ত্রিপুরাও। তবে সে রাজ্যের পুরভোটে জামানত জব্দ হয় তৃণমূল। কিন্তু হাল ছাড়ে নি মমতার দল। এই রাজ্যে ঘাঁটি শক্ত করতে মরিয়া তারা। কিন্তু এই অবস্থায় এবার দল ছাড়লেন ত্রিপুরার রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি।

গতকাল, রবিবার অব্যাহতি চেয়ে ত্রিপুরার ভারপ্রাপ্ত নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠান আব্দুল বাসিত খান। তাঁর লেখেন যে তিনি ২০১৪ সাল থেকে তৃণমূলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তৃণমূল দুর্নীতিতে জর্জরিত। এই কারণেই তিনি দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এহেন দুর্নীতির অভিযোগে যে তৃণমূলের অস্বস্তি বেশ বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

বলে রাখি, সম্প্রতি এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি ও গরু পাচার কাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে রয়েছেন তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল। এছাড়াও, শাসক দলের আর ও নানান নেতাদের নাল জড়িয়েছে দুর্নীতিতে। বঙ্গ রাজনীতি সেই নিয়েই উত্তাল। এবার সেই আঁচ পড়ল ত্রিপুরাতেও।

Related Articles

Back to top button