সব খবর সবার আগে।

মুখে বলে করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেললেন তৃণমূলের মন্ত্রীসভার এক সদস্য!

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই যেন ডাক্তার হয়ে উঠেছেন। এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায় দেখ। এবার ডাক্তারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তৃণমূলের প্রাণী সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। বিজেপির নেতা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা নাকি প্রায়ই আলটপকা মন্তব্য করে ফেলেন। কিন্তু শাসক দলের সদস্যরাও যে বেফাঁস মন্তব্য করতে কম যান না আজ সে কথার প্রমাণ দিলেন তৃণমূলের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।

তিনি আজকে নিজেই করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেলেন! পশ্চিমবঙ্গের প্রাণী সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ আজকে একটি অনুষ্ঠানে কাটোয়া হাসপাতাল চত্বরে যান। ভেষজ গাছ লাগানোর এই অনুষ্ঠানে কিছু বেফাঁস মন্তব্য করেন স্বপন বাবু। যা শুনে বাক্যহারা হয়ে গিয়েছেন চিকিৎসক ও গবেষকরা।

স্থানীয় একটি সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কালনা মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বড়াইও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ভেষজ গাছ নিজের হাতে মাটিতে বসানোর পর সুপারের সামনেই সাংবাদিকদের স্বপনবাবু বলেন, “তুলসীপাতা যেমন পুজোয় লাগে তেমন মানুষের শরীরের জন্যও তা উপকারী।” এতদূর পর্যন্ত তাও ঠিক ছিল। এরপরেই তিনি তার যুগান্তকারী মন্তব্যটি করেন। “তুলসী পাতা করোনার প্রতিষেধকের কাজ করে তাই সবার তুলসীপাতার রস খাওয়া উচিত।” মন্ত্রীর এহেন মন্তব্যে তখন থতমত খেয়ে গিয়েছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিরা।

স্বাভাবিকভাবেই এরপরে ডক্টর কৃষ্ণচন্দ্র বড়াই এর কাছে প্রশ্ন যায় যে, মন্ত্রী মশাই কি ঠিক বলছেন? সুপার তখন রীতিমত অপ্রস্তুত। তিনি ঘটনাটিকে সামাল দিতে বলেন, “তুলসী শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে এতে করোনার প্রতিষেধকের গুণ রয়েছে বলে এখনো কোনও প্রমাণ মেলেনি।”

এর আগে বিভিন্ন সময় বিজেপি নেতা মন্ত্রীদের বিভিন্ন অবৈজ্ঞানিক মন্তব্যকে নিয়ে শাসক দলকে হাসাহাসি করতে শোনা যায়। কিন্তু এবার তৃণমূলেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের এরকম প্রমাণ ছাড়া অবিবেচকের মত উক্তিতে দলেরই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

You might also like
Leave a Comment