সব খবর সবার আগে।

তবে কি গোর্খাল্যান্ডেই সম্মতি মমতার? এনডিএ ছাড়তেই গুরুংয়ের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়

হঠাৎ করে গুরুং-এর গলায় মমতার স্তব। মমতা সরকারের পুলিশ‌ও তাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কলকাতায় বিমল গুরুংয়ের (Bimal gurung) টিকিও ছুঁলনা। গতকাল তিন বছর পর হঠাৎ‌ই জনসমক্ষে এসে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (জিজেএম) সুপ্রিমো ঘোষণা করেন, এনডিএ ছাড়ছি। সেই সঙ্গে জানান নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ গোর্খাল্যান্ড (gorkhaland) সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। ২০২১-এ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata banerjee), সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপিকে উচিৎ জবাব দেব।

এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোর্খাল্যান্ড নিয়ে এত বিবাদ তিনি কি করে হঠাৎ মমতার সমর্থক হয়ে উঠলেন? তাহলে কি গোর্খাল্যান্ডের সম্মতিতে হ্যাঁ বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijayvargiya) বলেন, ওর বিরুদ্ধে এত কেস দেওয়া হল, অথচ কলকাতায় আসা সত্ত্বেও কলকাতা পুলিশ তার গায়ে হাত লাগাচ্ছে না। বিজেপির কেউ হলে গ্রেফতার করত। বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বন্ধুত্বে ইতি টানতেই ঘুরিয়ে মোর্চা নেতার গ্রেফতারির দাবি তুলল বিজেপি। সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগেই, পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন দেখা যাচ্ছে বিচিত্র পট পরিবর্তন। পাহাড়ের রাজনীতিতে বিজেপিকে শক্ত করেছে মোর্চারাই। ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯। পরপর তিনটি লোকসভা ভোটেই দার্জিলিং থেকে মোর্চার সাহায্যেই জিতেছেন বিজেপি প্রার্থীরা।

২০১৭ সালে দার্জিলিংয়ের পরিবেশকে অশান্ত করে তোলার অভিযোগে বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজু করে রাজ্য পুলিশ। ২০১৭ –এর ১৭ জুন সিংমারিতে সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাতেও গুরুং ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়। সেইবছরের‌ই ১৩ই অক্টোবর গুরুংকে ধরতে গিয়ে তার লোকেদের হাতে খুন হন সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিক। ঘটনার পরই কার্যত অন্তরালে চলে যান বিমল গুরুং। তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার যে ভালোমতো যোগাযোগ রয়েছে তা পরিষ্কার হয় বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডার ছেলের বিয়ের ভাইরাল হওয়া ছবি, যাতে গুরুংকে দেখা যায়।

তবে তিন বছর অন্তরালে থাকার পর বুধবার আচমকা কলকাতায় হাজির হয়ে বোমা ফাটিয়ে গুরুং দাবি করেন, পাহাড় নিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি মোদি-শাহ। কিন্তু মমতা কথা রেখেছেন। ঘোষণা করেন, ২০২১-এ মমতা, তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপিকে জবাব দেব। মমতাকে আবার মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চাই। ২০২৪-এ যে গোর্খাল্যান্ডের পাশে থাকবে, তাকে সমর্থন করব। পাল্টা বিজয়বর্গীয় বলেন, যাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের ডায়েরিতে এত মামলা, তিনি কীভাবে বহাল তবিয়তে কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন? মমতা কি গোর্খাল্যান্ড চাইছেন?তৃণমূল অবশ্য এ নিয়ে কোনও উত্তর দেয়নি।

এদিকে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে বিমল গুরুংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতার এনডিএ ত্যাগ কি বিজেপিকে পাহাড়ে ও ডুয়ার্সে বিপাকে ফেলবে? বিজয়বর্গীয়ের সপাট জবাব, বিজেপি সমুদ্র, যে দাঁড়াতে পারে সে লাভবান, যে পারে না তাঁর ক্ষতি। দলের কিছু হবে না।

You might also like
Comments
Loading...