রাজ্য

স্ত্রীর সঙ্গে পুরুষসঙ্গীকে নিয়ে একই বিছানায় স’হ’বা’সের জেদ ‘বাই সে’ক্সু’য়া’ল’ স্বামীর, পুলিশের দ্বারস্থ হলেন নির্যাতিতা

স্বামী ‘বাই সে’ক্সু’য়া’ল’, এই কারণে বিয়ের পর পুরুষ সঙ্গীকে নিয়েই এক বিছানায় স্ত্রীর সঙ্গে থাকার জেদ করতেন স্বামী। আর স্ত্রী না মানায় চলত অত্যাচার। নিজের পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে যদি স্ত্রী একই বিছানা ভাগ না করে নেন, তাহলে স্ত্রীকে মেরে পুঁতে দেওয়ার হুমকিও দেন স্বামী। উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হলেন  নির্যাতিতা স্ত্রী। এই ঘটনাটি ঘটেছে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে।

জানা গিয়েছে, মাস ছয়েক আগে রেজিস্ট্রি করে পেশায় স্কুল শিক্ষক ধনঞ্জয় দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় তনিমার (নাম পরিবর্তিত)। তনিমার কথায়, স্বামীর ওই বন্ধু স্থানীয় ধনবেড়িয়ার বাসিন্দা হলেও থাকতেন ধনঞ্জয়ের সঙ্গেই। সরকারি চাকুরিজীবী তনিমার দাবী, “স্বামীর পাশাপাশি ওঁর বন্ধুর সঙ্গেও এক শয্যায় রাত কাটানোর জন্য আমাকে জোর করা হত। আমি প্রতিবাদ করলেই চলত মারধর। এমনকী,কিছু বললে মেরে পাশের হোগলার বনে পুঁতে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হত”।

তনিমার দাবী তাঁর স্বামী বাই সে’ক্স’চু’য়া’ল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় রাতে দেখতাম স্বামী আমার পাশে নেই। ওই বন্ধুর সঙ্গে তাঁকে থাকতে দেখেছি। ওঁদের বিষয়ে যখন আমার সন্দেহ হয় তখন আমি কন্ডোমের হিসেব রাখতে শুরু করি। নতুন প্যাকেটে খোলার পর একটা আমরা ব্যবহার করলে বাকিগুলো কী হয় তা লক্ষ্য রাখতাম। কিন্তু কোনওদিন হিসেব পাওয়া যায়নি”। স্বামীকে তাঁর ওই বন্ধুর সঙ্গে আপত্তিজনক অবস্থাতে দেখেছেন বলেও দাবী তনিমার।

তনিমার অভিযোগ, তাঁর স্বামী তাঁকে তাঁর বন্ধুকে নিয়ে একই বিছানায় থাকার জন্য জেদ করতে থাকেন। এরপরই স্থানীয় মহিলা সমিতিকে এই ঘটনাটি জানান তনিমা। সেই সময় এই ঘটনার মিমাংসা করতে চাইলে দেখা করেন নি তনিমার স্বামী ধনঞ্জয়। এরপরই তনিমা পুলিশের দ্বারস্থ হন। নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ডায়মন্ড হারবার থানায় স্বামী ও তাঁর বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে রামিয়া সিপাই বলেন, “স্বামী ওঁকে বন্ধুর সঙ্গে থাকার কুপ্রস্তাব দিত। তাঁদের দু’জনকে একাধিকবার আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছে ও। এরপরেই স্বামী ও তাঁর বন্ধুর বিরুদ্ধে পুলিশে দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত”।

এই ঘটনায় ডায়মন্ড হারবার ২ নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অরুময় গায়েন বলেন, “ধনঞ্জয় দাস স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। শুভঙ্কর জানা নামক বন্ধুর সঙ্গে একই বিছানায় স্ত্রীকে থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই শিক্ষক জঘন্যতম কাজ করেছে। তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি”। পুলিশ সূত্রে খবর, তনিমার অভিযোগের ভিত্তিতে শুভঙ্কর জানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button