সব খবর সবার আগে।

বিজেপিকে ঠেকাতে তবে কী এবার তৃণমূল-বাম জোট? নতুন কোন ইতিহাস গড়বে ২১-এর নির্বাচন?

ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বামেদের আমলে তাসের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল ছিল কংগ্রেস। ধীরে ধীরে তৃণমূলের উত্থান স্পষ্ট হওয়ায় নিজেদের স্থান হারায় কংগ্রেস। ক্রমেই বামেদের সবচেয়ে বড় বিরোধী পক্ষ হয়ে দাঁড়ায় তৃণমূল।

আগামী নির্বাচনে বাংলাকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। তাই এবার অনেকেরই মত, বিজেপিকে হারাতে হয়ত একজোটে নির্বাচন লড়তে পারে তৃণমূল ও বাম। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় বিরোধী পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি।

দেখা গিয়েছে, ২০১১-এর নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার লড়াইয়ে বামেদের হারাতে কংগ্রেসের শরণাপন্ন হয় তৃণমূল। তবে এও দেখা গিয়েছে যে বাংলায় নিজের জমি পোক্ত হতেই কংগ্রেসের থেকে মুখ ফিরিয়েছে ঘাসফুল। আবার একসময় বাজপেয়ীর আমলে এনডিএ-তেও ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই বলাই বাহুল্য, জোট রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ছুঁৎমার্গ নেই। আগামী নির্বাচনে বিজেপি নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করলে তৃণমূল ও বাম একজোটে নির্বাচন লড়বে কী না, এ নিয়েই প্রশ্ন জাগছে জনগণের মনে। এও দেখা গিয়েছে যে, বামেদের বারবার স্বাগত জানিয়েছেন মমতা কিন্তু বামেরা একেবারেই তাতে আমল দেয়নি, কারণ, একসময়ের প্রধান বিরোধিতা।

২০১৯ সালে সিএএ-এনআরসি বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সব বিরোধী দলকে এক মঞ্চে আহ্বান জানান মমতা। কিন্তু এই সময় সিপিআইএমের  সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক মঞ্চ শেয়ার করবে না সিপিআইএম। তবে সিএ-এনআরসির বিরুদ্ধে তারাও প্রতিবাদ করছে। বাংলার গণতন্ত্রকে শেষ করে দিয়েছে মমতা। বাংলায় ২৭৮জন দলীয় নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় ভুয়ো মামলা সাজিয়েছে মমতা। লোকসভা ভোটে মমতার উপর জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। সেই ফায়দা তুলছে বিজেপি”।

গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখলে জানা যায় তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪৪.৯১ শতাংশ, সিপিআইএম-এর ছিল ১৯.৭৫ শতাংশ, কংগ্রেসের ১২.২৫শতাংশ ও বিজেপির দিকে ছিল ১০.১৬ শতাংশ ভোট। আবার ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল পায় ৪৩.৬৯ শতাংশ ভোট, বিজেপি পায় ৪০.৬৪ শতাংশ, বামেরা ৬.৩৪ শতাংশ, ও কংগ্রেস পায় ৫.৬৭ শতাংশ ভোট।

অতএব, দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের ভোট খুব একটা বেশি না কমলেও গত কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে বিজেপি। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন যে আগামী নির্বাচনে ২০০-এর বেশি আসন পাবে বিজেপি।

বাংলা জয়ের ক্ষেত্রে বিজেপি যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে ও যেভাবে এক এক করে তৃণমূল নেতা মন্ত্রীরা দল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে বিজেপির পাল্লা ভারী করছে, তাই আগামী নির্বাচনে যে বিজেপিই নির্ণায়কের ভূমিকা নেবে, তা বেশ স্পষ্ট। এবার এই অবস্থায়। বিজেপি ঠেকাতে তৃণমূল বামেদের সঙ্গে হাত মেলাতেই পারে। তবে বামেরা এই ব্যাপারে কতটা উদ্যোগী হয়, এখন সেটাই দেখার।

You might also like
Comments
Loading...