সব খবর সবার আগে।

দারিদ্রতা কাছে হার মেনেছে জাতীয় হকি খেলোয়াড়: আজ তার নাম মুচি চাঁদ

একসময় স্বপ্ন ছিল জাতীয় হকি খেলোয়াড় হওয়ার ৷ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৬ টি ম্যাচও৷ তবে বেশিদিন খেলার সুযোগ পাননি তিনি এমনকি দারিদ্রতায় সরকারের কোনো সাহায্যও পান নি তিনি।

দারিদ্রতা ধুলিস্মাৎ করেছিল তাঁর স্বপ্ন ৷ টেনে ফিরিয়ে এনেছিল বাস্তবের মাটিতে ৷সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যান খেলাধুলোর জগৎ থেকে ৷ পরবর্তীকালে পাননি কোনও সুযোগ সুবিধা ৷ তাই 55 বছরের মুচি চাঁদের গলায় খেলাধুলো নিয়ে অভিমানটা আজও স্পষ্ট ধরা পড়ে ৷ হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরে এখন তার দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটে টাউন হলের সামনে হাতে জুতো সেলাই এর সরঞ্জাম নিয়ে।

একসময় সেই হাতে ছিল হকির স্টিক ৷ স্বপ্ন ছিল জাতীয় খেলোয়াড় হওয়ার ৷ খেলেছেন 6 টি জাতীয় ম্যাচ তারপর দারিদ্রতার থাবা , তাকে সপাটে চর মেরে ফিরিয়ে এনেছিল বাস্তবের মাটিতে ৷ তার নাম ছিল সুভাষ চাঁদ ৷ একসময় ধ্যান চাঁদ এর সাথে তুলনা করা হতো। চাঁদ ছিলেন গোলকিপার ৷ কিন্তু গোলকিপার হওয়ার জন্য হকি-প্যাড বা হকি স্টিক কোনওটাই ছিল না ৷ ম্যাচের আগে ধার করতে হত স্কুলের বন্ধুদের থেকে ৷ 1984 সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিউট থেকে ডিপ্লোমা করেছিলেন ৷ তবে পাননি চাকরি ৷ তাই রীতিমত পেট চালানোর দায়ে এই পেশা বেছে নিতে হয়।

আজকাল আর মাঠে না, হামিরপুরের টাউন হলের সামনে রাস্তার ধারে একমনে বসে লোকের পায়ের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে হয় ৷ ভাবতে হয় আজ যদি জুতো সারাই বেশি হয় , কয়েকটা বেশি পয়সা আসবে এভাবেই কাটছে বছর 55-র সুভাষ চাঁদের ৷ সুভাষের এক মেয়ে আর এক ছেলে ৷ পড়েছেন M.Tech এবং B.Sc ৷ দু’জনেই কর্মরত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৷ তবে ছেলেমেয়েকে খেলার মাঠে কোনওদিন যেতে দেন নি ৷ খেলা অন্তপ্রাণ হলেও কোথাও যেন অবিচার করেছে তার স্বপ্নের সাথে যা তাঁর মনকে ক্ষোভে ভরিয়ে তুলেছে৷ ধুয়ে দিয়েছে আগের সেই খেলার প্রতি ভালোবাসা ।

দারিদ্রতা তাঁকে এনে দিয়েছে নতুন নাম মুচি চাঁদ ৷ চূড়ান্ত দারিদ্রতায় যখন কাতর তখনও কোনও সাহায্য আসেনি সরকারের তরফে ৷ দারিদ্রতা চরমে পৌঁছালে ছাড়তে হয় খেলা ৷ তখনও সাহায্যের হাত বাড়ায়নি কেউই ৷ এরপর জীবনের লড়াইয়ে হাতে তুলে নিতে হয় সুঁচ-সুতো ৷ বাঁচতে হয় লোকের জুতো সেলাই করে ৷ চম্বা জেলার একটি সামাজিক সংস্থা সুভাষ চাঁদকে সাহায্য করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে এবং তাঁর জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও পাঠিয়েছে তারা৷

Leave a Comment