সব খবর সবার আগে।

লকডাউন এর মধ্যেই শুরু পুরীর রথ নির্মাণের কাজ, রীতি মেনে রাজপথেই হবে রথযাত্রা!

অবশেষে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা নিয়ে ভক্তদের উৎকণ্ঠার অবসান হল। নির্দিষ্ট দিনে, যথাসময়ে ধর্মীয় রীতি ও লোকাচার মেনেই পুরীতে রথে চেপেই মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা।

প্রকাশ্যে রথযাত্রা নিয়ে দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীদের আবেগকে মর্যাদা দিয়েই এই বছর রথযাত্রার ঠিক ৫০ দিন আগে তিনটি রথেরই নির্মাণ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিল পুরীর মন্দিরের পাঁচ সদস্যের পরিচালন কমিটি। আজ, মঙ্গলবার পুরীর রাজবাড়ির পাশে পূর্বাতন ঐতিহ্য মেনে ধর্মীয় রীতিকে গুরুত্ব দিয়েই রথখোলায় তিনটি রথেরই নির্মাণ শুরু করবেন কারিগররা। তবে আগামী ৫ই জুন দেবতাদের স্নানযাত্রা ও ২৩ জুন রাজপথে রথযাত্রা নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। ১৭ মে তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন শেষ হলে ফের মন্দির কমিটি ও ওড়িশা সরকার বৈঠকে বসে প্রকাশ্য রাজপথে রথযাত্রা ও ভক্তসমাগম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

পুরীর মহারাজা দিব্যসিংহ, ওড়িশার মুখ্যসচিব অসিতকুমার ত্রিপাঠীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সোমবার এ কথা জানিয়েছেন মন্দির পরিচালন কমিটির অন্যতম সদস্য ও প্রধান শিঙ্গারী নীলকণ্ঠ মহাপাত্র। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় সরকার কোনওরকম জনসমাগম করে ধর্মীয় উৎসব করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু রথের নির্মাণে কোনও আপত্তি করেনি। তাই রাজবাড়ির পাশে রথখোলাতেই রথের নির্মাণ শুরু করায় সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকার।” সরকারি সিদ্ধান্তের পর সন্ধ্যা থেকেই মন্দিরের ভিতরে চন্দনযাত্রার দিন পুজো করে রাখা কাঠের গুঁড়ি রথখোলায় নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। তবে রাজপথে রথযাত্রা হবে তা নিশ্চিত হলেও রথের দড়ি আগের মতোই ভক্তরা টানবেন নাকি প্রতীকী প্রশাসনের তরফে গুন্ডিচা মাসির বাড়িতে পৌছে দেওয়া হবে, তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

পুরীর রাজপরিবারের প্রধান পুরোহিত ও রাজার প্রতিনিধি দেবীপ্রসাদ রথযাত্রার পক্ষে জোরালো সওয়াল করে জানিয়েছেন, “সামাজিক দূরত্ব মেনে ও অন্যান্য নিয়ম-রীতি কার্যকর করেই এই বছর যে একইপথে রথযাত্রা হবে তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। ভগবান তাঁর পথে যাবেন, ভক্তরাই ঠিক করে নেবেন, কীভাবে, কোন পথে দেবতাকে মাসির বাড়ি পৌছে দেবেন।” তাই রথযাত্রা কীভাবে হবে তা রাজ্য সরকার, পুরীর জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা বসে ঠিক করবেন। ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকে ভুবনেশ্বরে সচিবালয়ে ছিলেন মুখ্যসচিব, রাজবাড়িতে রাজা দিব্যসিংহ ও শ্রীমন্দিরে বসে ছিলেন পরিচালন কমিটির পাঁচ সদস্য। ছিলেন ওড়িশার স্বাস্থ্যসচিব প্রমোদকুমার মেহেরদা। ঠিক হয়েছে, “যাঁরা রথ তৈরির কাজ করবেন সেই বিশ্বকর্মার বংশধরদের প্রত্যেকদিন করোনা সংক্রমণ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা হবে। সবাই মুখে মাস্ক পরবেন। এলাকা ঘিরে দেওয়া হবে, থাকবে পুলিশ ও র‌্যাফ। রথের নির্মাণ দেখতে অন্য বছরের ন‍্যায় এই বছর কোনও ভক্ত যেতে পারবেন না।” নয় দিন রথের নির্মাণ শুরু না হওয়ায় যে ঘাটতি রয়েছে তা কারিগররা দিন-রাত কাজ করে মিটিয়ে দেবেন বলে দাবি মন্দির কমিটির।

You might also like
Leave a Comment