সব খবর সবার আগে।

মা ষষ্ঠীর ব্রত জামাইষষ্ঠীতে কীভাবে পরিণত হল? জানুন জামাইষষ্ঠী সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

আজ ১৬ই জুন, জামাইষষ্ঠী। বাঙালিদের কাছে এটি একটি বিশেষ দিন। জামাই শ্বশুরবাড়িতে আসে বিশেষ আমন্ত্রণে। শাশুড়ি মেয়ের সুখী দাম্পত্য জীবন ও জামাইয়ের মঙ্গলকামনা করে ষষ্ঠীর ব্রত পালন করেন।

জামাইষষ্ঠী সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া যাকঃ

  • বলা হয়, মা ষষ্ঠী শুধু গ্রাম দেবী নন। মঙ্গলকাব্যের অপর দুই দেবী শীতলা ও মনসার মতোই তিনি নানান অঞ্চলে পূজিত হন।
  • যাজ্ঞবল্ক্যস্মৃতিতে মা ষষ্ঠীকে বলা হয়েছে স্কন্দদেবের পালিকা মা ও রক্ষয়িত্রী। আবার পদ্মপুরাণে তিনি স্কন্দের স্ত্রী।
  • বায়ু পুরাণ অনুযায়ী, ষষ্ঠী ৪৯টি দেবীর অন্যতম। আবার, অপর একটি পুরাণে অনুযায়ী, তিনি সমস্ত মাতৃদেবীর মধ্যে আরাধ্যতমা দেবী।
  • জামাই ষষ্ঠী আসলে সন্তানের দেবী মা ষষ্ঠীর পুজো। এই ব্রতকে আবার অরণ্যষষ্ঠী হিসেবেও পালিত হয়।
  • বাংলাদেশে ষষ্ঠী দেবীর মূর্তি পুজো হয়। মার্জারবাহিনী ষষ্ঠীর কোলে এক বা একাধিক শিশু থাকে।
  • বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য অনেক রাজ্যেও ষষ্ঠী পুজো করা হয়। এই পুজোর সঙ্গে সন্তানের মঙ্গলের সম্পর্ক রয়েছে। উত্তর ভারতে বিশেষত বিহার, উত্তর প্রদেশে সন্তান জন্মানোর ৬ দিন পর একটি পুজো করা হয়। এতে ছট্টি বা ছঠি বলা হয়। মা ষষ্ঠীকে সেখানে ছঠি মাতা বলা হয়। ওডিশায় সন্তান জন্মের ৬ দিন বা ২১ দিন পর মা ষষ্ঠী দেবী পূজিত হন।
  • আবার অন্য একটি ধারণা অনুযায়ী, মা ষষ্ঠী অমঙ্গলের দেবী। দেবী ক্ষুব্ধ হলে সেই কষ্ট ভোগ করতে হয় মা ও সন্তানকে। কাশ্যপ সংহিতা মতে ষষ্ঠী জাতহরণি। তিনি মায়ের গর্ভ থেকেই থেকে ভ্রুণ কেড়ে নেন। সন্তান জন্মের ৬ দিনের মধ্যে তাঁকে ভক্ষণ করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এই কারণে শিশু জন্মানোর পর ষষ্ঠ দিনে তাঁকে পুজো করা হয়।

তবে প্রশ্ন ওঠে, এই ষষ্ঠীর ব্রত তো করা হয় সন্তানের মঙ্গলকামনায়। তাহলে তা জামাইষষ্ঠীতে কীভাবে পরিণত হল?

পুরনো মত অনুযায়ী, ১৮-১৯ শতকে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের কারণে অনেক মেয়েরাই একদম ছোটো বয়সেই বিধবা হতেন। এ কারণ বাঙালি মায়েরা মেয়ের সুখী দাম্পত্য জীবন ও জামাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে এই ষষ্ঠীর ব্রত পালন করতেন। এরপর থেকেই তা পরিণত হয় জামাইষষ্ঠীতে।

আবার, জামাইষষ্ঠী নিয়ে অন্য একটি মতও প্রচলিত রয়েছে। কথিত আছে, এক গৃহবধূ নিজের শ্বশুরবাড়িতে বারবার মাছ চুরি করে খেয়ে সেই দোষ চাপাতেন এক কালো বিড়ালের উপর। এর প্রতিশোধ নিতে সেই বউয়ের বাচ্চা হলেই সেই কালো বিড়াল তা তুলে এনে মা ষষ্ঠীর কাছে লুকিয়ে রাখত। একথা জানতে পেরে গৃহবধূ মা ষষ্ঠীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

দেবী তাঁকে দুটি শর্তে ক্ষমা করবেন বলে বলেন। এক, শুক্ল ষষ্ঠীর দিন মা ষষ্ঠীর পুজো করতে হবে। দুই, বিড়ালকে তাঁর বাহন হিসেবে সম্মান জানাতে হবে। সেই থেকেই মা ষষ্ঠীর আরাধনা শুরু করেন ওই গৃহবধূ। এরপর মা ষষ্ঠী তুষ্ট হওয়ার পর সে তাঁর সন্তান ফিরে পায়।

আবার অন্যদিকে, মাছ চুরির কথা জানতে পেরে ওই গৃহবধূর শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে তাঁর বাপেরবাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দেয়। মেয়েকে দেখার জন্য ব্যাকুল মা-বাবা ষষ্ঠীর দিন জামাইকে নিমন্ত্রণ জানান। ষষ্ঠীর দিন জামাইয়ের সঙ্গে মেয়েও যায় বাপের বাড়ি। সেই থেকেই এই ষষ্ঠীপুজো পরিণত হয় জামাইষষ্ঠীতে।

_taboola.push({mode:'thumbnails-a', container:'taboola-below-article', placement:'below-article', target_type: 'mix'}); window._taboola = window._taboola || []; _taboola.push({mode:'thumbnails-rr', container:'taboola-below-article-second', placement:'below-article-2nd', target_type: 'mix'});
You might also like
Comments
Loading...