সব খবর সবার আগে।

জম্বি (Zombie) ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্য রাস্তায়! হেইতির পথে পথে লুকিয়ে আছে জম্বির রহস্য

আমরা কার্টুন, গল্প, সিনেমাতে মানুষের মতো দেখতে কিছু অদ্ভুত প্রাণীকে দেখেছি। যারা নাকি মৃত। যাদের বোঝার বা ভাবার কোনো ক্ষমতা থাকে না। কেবল তারা অন্যের কথা মতো চলে। তাদের যা করতে বলা হয় তারা তাই করে। মানুষকে মেরে ফেলতেও এরা পিছপা হয় না। এদের আমরা জম্বি (zombie) বলে থাকি। কিন্তু বাস্তবে কি আদৌ জম্বির অস্তিত্ব থাকাটা সম্ভব? মানুষ মরে গেলে তাকে কি কেউ বাঁচাতে পারে? নাকি কিছু মানুষের কুকীর্তি ঢাকতে জম্বি একটা ভয়ের আচ্ছাদন মাত্র।

 

জম্বি শব্দটি আফ্রিকান শব্দ “Nazambie” থেকে এসেছে। আফ্রিকান ভাষায় এর অর্থ হল দেবদূত। ক্যারিবিয়ানদের হেইতিতে আজও জম্বিদের দেখা যায়। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি দেশ হলো হেইতি। এই দেশে এখনো উন্নতির আলো প্রবেশ করেনি। এই দেশটি আয়তনে বেশ ছোট। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা কালাজাদু এবং তন্ত্রমন্ত্রে বিশ্বাসী। আমাদের দেশে যেমন ব্রাহ্মণদের ঈশ্বরের পরেই স্থান দেওয়া হয় তেমনি হেইতির মানুষজন তান্ত্রিকদের ঈশ্বর প্রেরিত দূত মনে করেন এবং তাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করেন।

ANMN2A Witch Doctor

অনেকের মতে, এখানে তান্ত্রিকরা তাদের তন্ত্রবিদ্যা এবং ভেষজ জরুবুটির সাহায্যে মৃতপ্রায় মানুষকে জম্বিতে পরিণত করে।

হেইতি একটি অনুন্নত দেশ। তাই বেশিরভাগ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে তান্ত্রিকের কাছে যান। আর মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তান্ত্রিকরা তাদের একপ্রকার ভেষজ ওষুধ খাইয়ে দেয়। এই ওষুধের জেরে কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে কোমায় চলে যান। কিন্তু তাঁদের পরিবারের লোকজন ধরেই নেয় যে সেই ব্যক্তি মারা গেছেন এবং আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। তাই প্রথা মত তারা কোমায় যাওয়া ব্যক্তিকে কবরস্থ করে দেয়।

তান্ত্রিকদের কাছে এই খবর পৌঁছানো মাত্র তারা ওই কবরস্থ ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে আসে। এরপর তাদের জরিবটি এবং বাফার ফিস ও বিষাক্ত ব্যাঙএর বিষ দিয়ে নির্মিত ওষুধের সাহায্যে শুশ্রূষা করে ঠিক করেন। তবে জরিবটির প্রভাবে এই মানুষগুলির না তো চিন্তা করার ক্ষমতা অবশিষ্ট থাকে, না তো তাদের পুরানো দিনের কোনো কথা মনে থাকে। যার ফলে তারা অন্য একরকম অদ্ভুত প্রাণীতে পরিণত হয়। যাকে অনেকটা দেখতে হয় জম্বিদের মত। আর এরপর তান্ত্রিকরা নিজেদের কাজে এদের ব্যবহার করে। এভাবেই অশিক্ষার কারণে কিছু মানুষ তান্ত্রিকের কুকর্মের শিকার হয়।

বহুদিন ধরেই এই ঘটনা হেইতির বাড়িতে বাড়িতে চলে আসছিল। এই মারাত্মক ব্যভিচার সম্বন্ধে আর কোনো দেশ জানতে পারে নি। কিন্তু সব মিথ্যার যেমন একটা শেষ থাকে তেমনি এই ঘটনাও একদিন সবার সামনে প্রকাশিত হয়। প্রতিটি ব্যক্তির মতো নারসিসকেও নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করতেন তান্ত্রিকরা। এরকম চলতে চলতে প্রায় ২০ বছর কেটে যায়। একদিন নারসিসের বোন হঠাৎই তার দাদাকে অমন ভয়ঙ্কর রূপে দেখেও চিনতে পারে। এরপর বহু কষ্টে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং মেডিকেল ট্রিটমেন্ট চালু করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে নারসিস সুস্থ হতে থাকেন। কুড়ি বছরের দাসত্ব থেকে মুক্তি পায় নারসিস। না এখন আর কোনো জম্বি নয় , তিনি এখন একজন সুস্থ স্বাভাবিক সাধারণ মানুষ। সুস্থ হওয়ার পর তার জীবনের ফেলে আসা ২০ বছরের ভয়ানক দিনগুলোর কথা তিনি পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেন। তখন তিনি দুঃখের সাথে বলেছিলেন, তাঁর মতো অনেক মানুষকে তান্ত্রিকরা এখনও জম্বি বানিয়ে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করে চলেছে।

অশিক্ষা এবং কুসংস্কার মানুষকে কোন পর্যায় নিয়ে যেতে পারে এই ঘটনা তারই প্রমাণ বহন করছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরও সেখানকার মানুষের মধ্যে চেতনা হয়নি। বরং আজও এই প্রথার জেরে তান্ত্রিকদের ফাঁদে পড়ছেন , না জানি কত শত মানুষ।

Leave a Comment