সব খবর সবার আগে।

১০০ বছর আগের মহামারী স্প্যানিশ ফ্লু একই রকম বিধ্বংসী ছিল! দেখে নিন ২০২০-র অতিমারীর সঙ্গে এর কী পার্থক্য রয়েছে‌..

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

করোনা মোকাবিলায় এখন ১০০ বছর আগের স্প্যানিশ ফ্লুর ইতিহাস ঘাঁটতে বসেছেন গবেষকরা। কিন্তু করোনা আর স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মধ্যে মিল তেমন নেই। এখনও পর্যন্ত করোনায় প্রবীণদের মৃত‍্যুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, সেখানে স্প্যানিশ ফ্লুয়ে সর্বাপেক্ষা মৃত্যু হয়েছিল তরুণদেরই। ১০০ বছর আগে হ‌ওয়া এই মহামারী, বিশ্বকে তছনছ করেছিল।

২০১৯ এর শেষে ধরা পড়া এই করোনা ভাইরাস কার্যত ঘরবন্দি করে ফেলেছে বিশ্বকে। কেড়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষ প্রাণ। সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিকে। এই পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে জানা নেই কারর। জানা নেই ভাইরাস ঠেকানোর উপায়। উপরন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে করোনা এরপর থেকে সামাজিক জীবনের অঙ্গ হতে চলেছে।

করোনা ঠেকানোর উত্তর খুঁজতে তাই এখন একশো বছর আগের এক মহামারীর তথ‍্য ঘাঁটতে বসেছেন গবেষকরা। সেই মহামারীর নাম ছিল স্প্যানিশ ফ্লু। এই এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। ১৯১৮ সাল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষাশেষি মাথাচাড়া দেয় এই মারণ ভাইরাসটি। প্রাণ হারান পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ। আদতে এই ভাইরাসের জন্ম হয় উত্তর আমেরিকায়। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের আবহে ভাইরাস সংক্রান্ত খবরে বিধিনিষেধ জারি করে বিভিন্ন দেশ। ব্যতিক্রম ছিল স্পেন। সেই সময় স্পেনের সংবাদমাধ্যমে এই রোগের খবর ফলাও করে প্রচারিত হয়। তার সেই থেকেই এই ভাইরাসের নাম স্প্যানিশ ফ্লু।

গবেষকদের একাংশের দাবি, করোনা ও স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি, ২ ভাইরাসই মানুষের শ্বাসযন্ত্রে আক্রমণ করে৷ করোনা ও স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মধ্যে এর থেকে বেশি আর কোনও মিল নেই৷ করোনায় মৃতদের মধ্যে ১৮ শতাংশই ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে৷ করোনায় ৫০ বছরের নীচে মৃতের সংখ্যা ১ শতাংশেরও কম৷ স্প্যানিশ ফ্লুতে মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ২৫-৪০ এর মধ্যে৷ মৃতের তালিকায় ৬৫ ঊর্ধ্বরা তুলনামূলকভাবে কম৷

স্প্যানিশ ফ্লুতে তরুণদের মৃত্যুহার কেন এত বেশি? এর সঠিক উত্তর নেই গবেষকদের কাছে। তবে চিকিৎসকদের একাংশের ধারণা,১৮৮৫ সালের আগে স্প্যানিশ ফ্লু-এর মতো কোনও ভাইরাস হানা দিয়েছিল। সেই ভাইরাসের তীব্রতা কম থাকায় অতিমারীর চেহারা নিতে পারেনি। তবে সেইসময়ে অনেকেই সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ফলে অনেক মানুষের শরীরে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যায়। এই অ্যান্টিবডির কারণেই প্রবীণদের মধ্যে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি স্প্যানিশ ফ্লু। তাই স্প্যানিশ ফ্লুয়ে মৃতের তালিকায় তরুণদের সংখ্যা এত বেশি ছিল৷

মিল না থাকুক। করোনা ও স্প্যানিশ ফ্লু রুখতে নেওয়া পদক্ষেপগুলির মধ্যে অনেক মিল পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একশো বছর আগেও স্প্যানিশ ফ্লু ঠেকাতে গৃহবন্দি থাকতে হয়েছিল বিশ্বকে। পরতে হয়েছিল মাস্ক। ১০০ বছর পরেও বদলালোনা ছবিটা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.