সব খবর সবার আগে।

মার খেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর নাম সৌরভ, আজ দাদার জন্মদিনে রইল তার মোড় ঘোরানো কিছু সিদ্ধান্ত

আজ বাংলার মহারাজের জন্মদিন। তিনি এমন এক বাঙালী যিনি বাঙালী জাতির ওপর ওঠা প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু জবাব। বাঙালির নাকি টিম লিডার হওয়ার ক্ষমতা নেই। এমনকি বাঙালি মানে ওই ভাত ঘুম আর ১০টা-৫টার চাকুরী। কিন্তু এই একজন মানুষ যিনি বিশ্বের কাছে প্রমান করেছেন বাঙালি সব পারে।

একটা ধুঁকতে থাকা ভারতীয় দলকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা থেকে শুরু করে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। টিম ইন্ডিয়ার কারিগর। প্রায় নতুনদের নিয়ে গড়া একটি দলকে ২০০৩ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন এই এক ব্যক্তি৷ আজ ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ৪৮তম জন্মদিন। তাই আজ দাদার জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর জীবনের ৫টি সিদ্ধান্ত, যা শুধু দাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ারই নয় এমনকি ভারতীয় ক্রিকেটের গতিপথকেও ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

১. একজন মানুষ যিনি অস্ট্রেলিয়ার চোখে চোখ করে জিতে দেখিয়েছিলেন। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই না ভুলতে পারে ইডেন টেস্টে ভিভিএস লক্ষ্মণকে ৩ নম্বরে ব্যাট করতে নামানো ৷ আসলে দাদা তার দলের প্রত্যেকের নাড়ি নক্ষত্র বুঝতেন। তিনি জানতেন, অস্ট্রেলিয়ার দুর্ধষ বোলিং অ্যাটাক অবলীলায় সামলাতে পারবেন লক্ষ্মণ৷ তৃতীয় দিনে যখন ভারতকে ফলোঅন দেয় অস্ট্রেলিয়া তখন সৌরভ সিদ্ধান্ত নেন, রাহুল দ্রাবিড়ের পরিবর্তে তিন নম্বরে লক্ষ্মণকে খেলাবেন৷ বাকিটা ইতিহাস৷ দ্রাবিড় ও লক্ষ্মণের সেই অনবদ্য ইনিংস৷ অস্ট্রেলিয়াকে গো হারান হারিয়ে ২-১ টেস্ট সিরিজ জিতে যায় ভারত৷

২. বীরেন্দ্র সেহওয়াগ এর টেস্ট ওপেনার হওয়ার পিছনেও ছিল দাদার কীর্তি। বীরেন্দ্র প্রথমে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতেন৷ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট ডেবিউ ম্যাচেও তিনি ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেদিন সৌরভ কিছু একটা বুঝেছিলেন, যা অন্যরা বোঝেননি৷ তাই তিনি সেহওয়াগকে ওপেন করতে পাঠান৷ তাঁর মনে হয়েছিল, সেহওয়াগ ওপেন করলে আরও ভাল খেলতে পারবেন ৷ এরপর বাকিটা হয়তো ভবিতব্য ছিল। সেই সেহওয়াগ হয়ে উঠলেন ভারতের অন্যতম সেরা টেস্ট ওপেনার৷

৩. তখনও এমএস ধোনির মতো খেলোয়াড় উইকেট কিপার হয়ে আসেননি ভারতে৷ এবার উইকেট কিপিং কে করবেন, তা নিয়ে চিন্তায় সবাই৷ সৌরভ ঠিক করলেন, দ্রাবিড় উইকেট কিপিং করবে৷ অধিনায়কের নির্দেশ মানতেই হবে। দ্রাবিড় গ্লাভস পরলেন৷ ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত উইকেট কিপার ও ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রাবিড়রের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলেন বাংলার ঘরের ছেলে সৌরভ৷

৪. এমএস ধোনির টিমে আসাও কিন্তু দাদারই হাত ধরে। তাঁকে দাদা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩ নম্বরে ব্যাট করিয়েছিলেন ৷ প্রসঙ্গত, ভারতের দুই সেরা অধিনায়কের জন্মদিনও পরপর৷ ধোনির খারাপ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও দাদা তাঁকে জায়গা দেন৷ ২০০৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভাইজাগে ধোনিকে ৩ নম্বরে ব্যাট করতে নামান সৌরভ৷ তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মাহিকে৷

৫. দাদা যে নিজেই পজিটিভ থাকেন তা কিন্তু নয়। তিনি নতুন প্রতিভাদের মনেও বিশ্বাস জুগিয়েছিলেন৷ বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, যুবরাজ সিং, মহম্মদ কইফ, হরভজন সিং, জাহির খান, এমএস ধোনি সৌরভের নেতৃত্বেই ভারতের ক্রিকেট টিমের সব উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জলজল করেছেন। বিদেশের মাটিতে একজন খেলোয়াড়ের মনোবল বাড়ানোর সাইকোলজিও তিনি জানতেন৷ তাই বিদেশের মাটিতে ২৮টি টেস্টের মধ্যে ১১টি জয় পেয়েছিলেন অধিনায়ক সৌরভ৷

You might also like
Leave a Comment