খেলা

প্রয়াত কিংবদন্তি বাঙালি ফুটবল তারকা সুভাষ ভৌমিক, শোকস্তব্ধ ক্রীড়ামহল

প্রখ্যাত বাঙালি ফুটবল তারকা সুভাষ ভৌমিকের জীবনাবসান। শোকস্তব্ধ গোটা ক্রীড়ামহল। জানা গিয়েছে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি ছিল কিডনির সমস্যাও। গত সাড়ে তিন মাস ধরে ডায়ালিসিস নিচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। শেষের দিকে শারীরিক অবস্থা বেশ গুরুতর হয়ে ওঠে।

আজ, শনিবার একবালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুভাষ ভৌমিক। তাঁর হৃদজনিত সমস্যা ছিল বলেও জানা গিয়েছে। কিছু বছর আগেই হয়েছিল বাইপাস সার্জারি। বুকে সংক্রমণ ছিল। শনিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ মৃত্যু হয় প্রবীণ ফুটবলারের। এরপর সকাল ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানান।

ফুটবল ময়দানে তিনি ভোম্বলদা বলেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর পায়ের জোরে জালে কাঁপত, এমনও বলা হয়। প্রতিপক্ষদের ত্রাস ছিলেন তিনি। এই কারণেই তাঁকে তাঁর অনুরাগীরা ‘বুলডোজার’ বলে ডাকত।

মালদার ছেলে সুভাষ ফুটবলের ময়দানে একচেটিয়া রাজ করেছেন। দক্ষ কোচ তিনি ছিলেনই, এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন এশিয়াডে শেষ পদকজয়ী ফুটবলার। অলরাউন্ড ফরওয়ার্ড ছিলেন তিনি। জেদ ও ক্ষিপ্রতার পাশাপাশি ছিল দারুন শারীরিক গঠন।

গতকাল, শুক্রবারই তাঁর চিকিৎসা নিয়ে বৈঠকে বসেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মহামেডানের কর্তা কামারউদ্দিন, ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার, মোহনবাগানের অর্থ সচিব দেবাশিস দত্ত। এদিন এই বৈঠকে ছিলেন বিশিষ্ট ফুটবলাররাও। উপস্থিত ছিলেন ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, বিকাশ পাঁজি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিদেশ বসু, মানস ভট্টাচার্য সহ বেশ কয়েকজন বাংলার প্রাক্তন ফুটবলার।

এছাড়াও ছিলেন IFA-এর সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেডিকা হাসপাতালের ডিরেক্টর সহ তাঁর মেডিক্যাল টিম এবং সুভাষ-পুত্র অর্জুন ভৌমিক। বৈঠক শেষে স্থির হয় যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেই বর্ষীয়ান ফুটবলারের চিকিৎসা হবে। কিন্তু চিকিৎসা পুরোদমে শুরুর আগেই চলে গেলেন সুভাষ ভৌমিক।
কিছুদিন আগেই তাঁর ছেলে অর্জুন ভৌমিক বাবাকে নিয়ে বলেছিলেন, “বাবা অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে অবস্থা খুবই খারাপ দিকে যায়। তবে আগের থেকে এখন একটু ভালো আছেন। পরিচিতরা ফোন করে খবর নিচ্ছে”।

Related Articles

Back to top button