সব খবর সবার আগে।

প্রচুর অবৈধ সম্পত্তির মালিক শচীন তেন্ডুলকর, বিতর্কিত ‘প্যান্ডোর পেপার্সে’ এবার নাম জড়াল সস্ত্রীক ক্রিকেট কিংবদন্তির

এবার বিতর্কে জড়ালেন স্বয়ং ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকর। গতকাল, রবিবারি বিতর্কিত ‘প্যান্ডোরা পেপার্স’ ফাঁস হয়েছে। এতে বিশ্বের নানান প্রান্তে একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন রাজনৈতিক নেতা ও ৩০০-এরও বেশি প্রভাবশালী সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নাম রয়েছে। এই তালিকাতেই নাম জড়াল এবার শচীন তেন্ডুলকর, তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি তেন্ডুলকর ও অঞ্জলির বাবা আনন্দ মেহতার।

একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘প্যান্ডোরা পেপার্সে’ জানানো হয়েছে যে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে সাস ইন্টারন্যাশানাল লিমিটেড নামে একটি সংস্থার ডিরেক্টর পদে রয়েছেন শচীন ও অঞ্জলিরা। ২০১৬ সালে এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত শচীন।

এই সংস্থায় শচীনের শেয়ার রয়েছে ৯টি যার মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় ৭ কোটি টাকা। তাঁর স্ত্রী অঞ্জলির এই সংস্থায় রয়েছে ১৪টি শেয়ার যার মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় ১১কোটি টাকা। তবে শচীনের অ্যাটর্নি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, শচীনের সমস্ত সম্পত্তি বৈধ ও আয়কর বিভাগের কাছে এসব সম্পত্তির হিসেব রয়েছে।

শচীন ছাড়াও বিতর্কিত ‘প‌্যান্ডোরা পেপার্স’-এ আরও অনেকেরই নাম রয়েছে। যেমন- লন্ডনে অফিস কেনার সময় ঘুরপথে ৩.১২ লক্ষ পাউন্ড স্ট‌্যাম্প ডিউটি ফাঁকি দিয়েছেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তাঁর স্ত্রী। আবার জর্ডনের রাজা গোপনে ব্রিটেন ও আমেরিকায় সাত কোটি পাউন্ডের সম্পত্তি কিনেছেন। এছাড়াও ফাঁস হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মোনাকোয় গোপন সম্পত্তি। ফ্রান্সের দক্ষিনাঞ্চলে দুটি ভিলা কিনতে বেনামে একটি সংস্থায় ১২ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ গোপন করে গিয়েছেন চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিজ।

ফিনসেন ফাইলস, প্যারাডাইস পেপারস, পানামা পেপারস এবং লাক্সলিক্সের পর গত সাত বছরের মধ্যে এই ‘প্যান্ডোরা পেপারেস’ সর্বশেষ ফাঁস। এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হল বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দেশের কর-ব‌্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন, বিশ্বজনতার কাছে তা-ই তুলে ধরা।

এই ‌‘স্টিং অপারেশনের’ উদ্যোক্তা ইন্টারন‌্যাশনাল কনসর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম-এর পক্ষে জানানো দেওয়া যে প্রভাবশালীদের এই করফাঁকির প্রবণতা বিশ্বে অর্থনৈতিক বৈষম্যের অন‌্যতম কারণ। এর জেরে বহু শিশু পড়াশোনা, পুষ্টিযুক্ত খাবার এমনকি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। এই ছায়া-অর্থনীতি ধনী ও প্রভাবশালীদের সুবিধা দেয়। বিশ্বের নানান অংশের সাড়ে ছশোর বেশি সাংবাদিক এই বিরাট অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। গার্ডিয়ান ও আরও অনেকগুলি সংবাদমাধ‌্যমের সঙ্গে অংশ নিয়ে বিবিসি প‌্যানোরামার অভিযানে ১৪টি আর্থিক সংস্থার ১.২ কোটি গোপন নথি উদ্ধার হয়েছে।

এই প‌্যান্ডোরা পেপার্সে তথ্য মিলেছে যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অভ্যন্তরীণ বৃত্তের সদস্যরা, যার মধ্যে ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং তাদের পরিবার, গোপন সংস্থা এবং ট্রাস্টের মালিক। তাদের লুকানো সম্পত্তির পরিমাণ লক্ষ লক্ষ ডলার। এদিকে অনিল আম্বানি, যিনি ব্রিটেনের একটি আদালতে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষনা করেছেন, তাঁরও ১৮ টি অ‌্যাসেট হোল্ডিং কোম্পানি রয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...