রহস্যের মোড়কে মোড়া ‘ফ্লাইওভার’, সেই রহস্য কী ভেদ করতে পারলেন কোয়েল?

কিছু বছর আগে দক্ষিণী একটি ছবি ‘ফ্লাইওভার’-এর গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে পরিচালক অভিমন্যু মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘ফ্লাইওভার’। দক্ষিণী ছবি থেকে বাংলায় সংস্করণ করে ছবি বানানোর চল আগাগোড়াই রয়েছে। এক্ষেত্রে মূল ছবিটি বানিয়েছিলেন কন্নড় পরিচালক পবন কুমার। সেই গল্প ধরেও বাংলায় তৈরি হল এই ছবি। গল্পের বিষয় অতি সাধারণ, কোনও জটিলতা নেই।
বেঙ্গালুরুর লোকেশনকে এখানে কলকাতার লেক ফ্লাইওভারে বদলে দেওয়া হয়েছে। বাকি গল্পকে অপরিবর্তিত রেখেই চিত্রনাট্যে কিছুটা বাঙালিয়ানা ঢুকিয়ে তৈরি বাংলা ছবিটি। মূল ছবিতেও অপরাধী চিহ্নিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় মৃত স্ত্রীর প্রেতাত্মা নিয়ে আসার বিষয়টি বড়ই অস্বস্তিকর এবং যুক্তিগ্রাহ্য নয়। বাংলার দর্শক খুনের সঙ্গে অশরীরীর ক্রিয়াকলাপ মেনে নিতে পারবে না। ঘটনা অতি তুচ্ছ।
আরও পড়ুন- পিসি শাশুড়ির সঙ্গে উদ্দাম নাচ মিঠাইয়ের, মুহূর্তে ভাইরাল ভিডিও
রাস্তা শর্টকাট করার জন্য কিছু বাইক আরোহী মাঝে মাঝে রাস্তার মাঝখানের ডিভাইডার গুলো সরিয়ে উলটো পথে চলে যান। সরানো ডিভাইডার পরে থাকে মাঝখানে। আর দূর্ঘটনা ঘটে সেখানেই। এটুকু পর্যন্ত বিশ্বাস্য থাকে ঘটনা। কিন্তু যখন এই দুষ্কৃতকারী আরোহী একের পর এক খুন হতে থাকে, তখনই ময়দানে উপস্থিত হন তরুণী সাংবাদিক বিদিশা। এই চরিত্রে অভিনয় করছেন কোয়েল মল্লিক। ঘটনার জট ছাড়াতে তিনি পাশে পান তাঁর সতীর্থ বন্ধুকে। অনুসন্ধানে জড়িয়ে পড়েন এক তরুণ পুলিশ অফিসারও। রহস্যের জট ছাড়ালে যে সত্য বেরিয়ে আসে, সেটা আজগুবি, ভিত্তিহীন, অবৈজ্ঞানিক ছাড়া কিছু নয়।
পরিচালক অভিমন্যু মুখোপাধ্যায় মূল চিত্রনাট্যের বাঁধুনি থেকে খুব একটা সরে থাকেননি। তবে এমন মূলানুসারি হওয়ার ফলে ছবিটি বেশ টানটান উত্তেজনার, রহস্য ধরে রাখতে পেরেছেন প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। অনুপম রায়ের আবহ চলতি থ্রিলারের বাইরে বলেই ভাল লাগে। একটি গানকেই তিনি টুকরো টুকরো ভাবে সুন্দর ব্যবহার করেছেন। গানটি না থাকলেও কোনো ক্ষতি হত না।
আরও পড়ুন- কোলে রকস্টার ইউভান, মা শুভশ্রীর কোলে চড়েই ফটোশুট সারল ইউভান
কোয়েলের অভিনয় বেশ ঝরঝরে। খুবই স্বাভাবিক ও স্বতস্ফূর্ত। দু-একটি জায়গায় একটু বেশিই! তবুও তাঁর চটপটে ভাবটার জন্যই বিদিশা অনেকাংশে বিশ্বাস্য হয়ে ওঠে। ছোটপর্দার পরিচিত মুখ কৌশিক রায় সুযোগ পেয়েছেন কম, তাঁর যেটুকু করার করেছেন। শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় একইরকম পুলিশ অফিসার, সহকারী গৌরব চক্রবর্তীও বসের অনুসারী। তবে তিনি মাঝে মধ্যে বিদিশার প্রতি অনুরাগের চাহনিটা না দিলেই পারতেন। তবুও, অন্যান্য থ্রিলার, রহস্য, গোয়েন্দা ছবির বাইরে ‘ফ্লাইওভার’ একটু অন্যরকম।